কাণ্ডারী হুঁশিয়ার!, সর্বহারা কাব্যগ্রন্থ, কাজী নজরুল ইসলাম।

কাণ্ডারী হুঁশিয়ার ! 

১ 

দুর্গম গিরি, কাস্তার-মরু, দুস্তর পারাবার
লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি নিশীথে, যাত্রীরা হুঁশিয়ার !

 দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, ভুলিতেছে মাঝি পথ, 
ছিঁড়িয়াছে পাল, কে ধরিবে হাল, আছে কার হিম্মৎ? 
কে আছ জোয়ান হও আগুয়ান হাঁকিছে ভবিষ্যৎ। 
এ তুফান ভারি, দিতে হবে পাড়ি, নিতে হবে তরী পার৷ 

২ 

তিমির রাত্রি, মাতৃমন্ত্রী সার্ত্রীরা সাবধান
 ! যুগ-যুগান্ত সঞ্চিত ব্যথা ঘোষিয়াছে অভিযান। 
ফেনাইয়া ওঠে বঞ্চিত বুকে পুঞ্জিত অভিমান, 
ইহাদের পথে নিতে হবে সাথে, দিতে হবে অধিকার ॥ 

৩ 

অসহায় জাতি মরিছে ডুবিয়া, জানে না সম্ভরণ,
 কাণ্ডারী । আজ দেখিব তোমার মাতৃমুক্তিপণ। 
“হিন্দু না ওরা মুসলিম?” ওই জিজ্ঞাসে কোন্ জন? 
কাণ্ডারী । বল ডুবিছে মানুষ, সন্তান মোর মার !

 8 

ভীরু যাত্রীরা, গুরু গরজায় বাজ,
 পশ্চাৎ-পথ-যাত্রীর মনে সন্দেহ জাগে আজ ! 
কাণ্ডারী! তুমি ভুলিবে কি পথ? ত্যজিবে কি পথ-মাঝ? 
করে হানাহানি, তবু চল টানি, নিয়াছ যে মহাভার!
 কাণ্ডারী! তব সম্মুখে ঐ পলাশীর প্রান্তর,
 বাঙালির খুনে লাল হ’ল যেথা ক্লাইভের খঞ্জর। 
ঐ গঙ্গায় ডুবিয়াছে হায়, ভারতের দিবাকর। 
উদিবে সে রবি আমাদেরি খুনে রাঙিয়া পুনর্বার। 

ফাঁসির মঞ্চে গেয়ে গেল যারা জীবনের জয়গান,
 আসি অলক্ষ্যে দাঁড়ায়েছে তারা, দিবে কোন বলিদান?
 আজি পরীক্ষা জাতির অথবা জাতের করিবে ত্রাণ? 
দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, কাণ্ডারী হুঁশিয়ার।